বিসিবি থেকে ‘সরানো’ হচ্ছে ফারুককে!

সময়ের আলো ডেস্ক

খেলাধুলা

বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমন খবরে তোলপাড় ক্রিকেটপাড়া। সভাপতির চেয়ার নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে

2025-05-29T17:02:50+00:00
2025-05-29T17:24:43+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
খেলাধুলা
বিসিবি থেকে ‘সরানো’ হচ্ছে ফারুককে!
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০২৫, ৫:০২ পিএম  আপডেট: ২৯.০৫.২০২৫ ৫:২৪ পিএম
বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত
বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমন খবরে তোলপাড় ক্রিকেটপাড়া। সভাপতির চেয়ার নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষমতাধর আসনে কে বসবেন, এখন আর সেটা শুধু নির্বাচন বা নিয়মের ব্যাপার নয়। অনেকটাই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের খেলা।  

বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। বুধবার (২৮ মে) রাতে ক্রীড়া উপদেষ্টার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ডাকে ফারুকের সঙ্গে হওয়া বৈঠকেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। যদিও তাকে সরাসরি পদত্যাগ করতে বলা হয়নি, কিন্তু যেভাবে কথা বলা হয়েছে, তাতে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, তাকে আর রাখা হচ্ছে না। 

গত বছরের ২১ আগস্ট যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বিসিবি সভাপতি হন ফারুক আহমেদ। এরপর তার নানা কর্মকান্ড নিয়ে ওঠে সমালোচনার ঝড়। বিসিবির এফডিআরের ২৫০ কোটি টাকা এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে ট্রান্সফারের অভিযোগ ওঠে ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে। তার অবশ্য ব্যাখ্যাও দেন ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন বোর্ড।

এরইমধ্যে গতকাল ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের পর গণমাধ্যমকে ফারুক আহমেদ জানান, উপদেষ্টা আমাকে পদত্যাগ করতে বলেননি। শুধু বলেছেন, ‘আমাকে আর ‘কন্টিনিউ’ করাতে চান না।’ 


ক্রীড়া উপদেষ্টা আর ফারুকের এমন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ ক্রিকেট প্রশাসনে সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। এক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি তাদের। সরকারি হস্তক্ষেপের জন্য শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নিকট অতীতেই ঘটেছে।

ফারুককে সরিয়ে দেওয়া হলে বাংলাদেশের ওপরও নেমে আসতে পারে নিষেধাজ্ঞা। আবার ফারুক পদত্যাগ করলেও প্রমাণ করা মুশকিল যে, এই সিদ্ধান্ত সরকারি প্রভাবমুক্ত নয়।

সরকার নাকি চায়, সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে এনএসসির প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে সদস্য করে, পরে পরিচালকদের ভোটে সভাপতির আসনে বসাতে। তারপর অক্টোবরে নির্বাচন, সেখানেই শেষ হবে তার কার্যকাল। তিনি নিজেও এক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিসিবিতে লম্বা সময় থাকার ইচ্ছা তার নেই। 

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ও আইসিসির চাকুরে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে নিয়ে বিসিবির সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে বেশ জোর আলোচনা চললেও বাস্তবে তার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি হতে হলে আগে কাউন্সিলর এবং এরপর পরিচালক হতে হয়। আমিনুল বর্তমানে কোনো ক্লাব, সংস্থা বা কোটার অধীনে বিসিবির কাউন্সিলর নন। ফলে স্বাভাবিক নিয়মে তার সভাপতি হওয়ার পথ একেবারেই বন্ধ।

কোয়াবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল এক গণমাধ্যমকে বলছেন, ‘বুলবুল ভাইয়ের সাংবিধানিক কোনো সুযোগ নেই। আগে কাউন্সিলর না হলে তো পরিচালক হওয়াই যায় না।’ তার মতে, বিষয়টি আমিনুলের জানা থাকা উচিত এবং এখন তারই পরিষ্কার করে বলার সময় এসেছে।

বিসিবির গঠনতন্ত্রের ১৩.২ ধারার উপধারা অনুযায়ী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কাউন্সিলরের মধ্য থেকেই পরিচালক মনোনীত করতে পারে। ফারুক আহমেদ ও নাজমুল আবেদীন ফাহিম যেমন আগে থেকেই কাউন্সিলর ছিলেন, তাই তাদের বোর্ডে আনা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আমিনুল সে তালিকায় নেই। সুতরাং যত গুঞ্জনই উঠুক না কেন, বিসিবির সভাপতির পদে তার বসার সুযোগ আপাতত ‘নেই’ বললেই চলে।

আগামী ৩১ মে শনিবার বিসিবির বোর্ড মিটিং রয়েছে। সেখানে সভাপতি ইস্যুতে বিস্তারিত আভাস মিলতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এসকে/ 


Loading...
Loading...
খেলাধুলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: